শিরোনাম

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নারী কর্মকর্তা, বললেন- যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব রয়েছে



চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ক্যারি প্রেজিন বোলার অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব রয়েছে এবং এই কারণেই ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয় ‘ম্যাগা’ আন্দোলন এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং আমরা ট্রাম্পকে আর চিনি না।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তার প্রশাসনেরই সাবেক কর্মকর্তা ক্যারি প্রেজিন বোলার। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইসরায়েলের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (ম্যাগা) আন্দোলন এখন ‘শেষ হয়ে গেছে’।

সোমবার ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সর্ড’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে বোলার বলেন, তিনি আর ট্রাম্পকে ‘চেনেন না’, যদিও তাকে একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনে করতেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা এক ধরনের দখলদারিত্বের মধ্যে আছি। একটি বিদেশি দেশ আমাদের সরকারকে দখল করে দিয়েছে। এখন আমরা দেখছি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একটি বিদেশি সরকারের প্রভাবে কাজ করছেন’। ইরান যুদ্ধের পেছনে ইসরায়েল এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘন ঘন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টিকে দায়ী করেন তিনি।

বোলার বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) প্রায় আটবার এখানে এসেছেন। এটি লজ্জাজনক। আমরা যুক্তরাষ্ট্র— তাহলে কেন একটি বিদেশি দেশ আমাদের সরকারকে প্রভাবিত করতে দিচ্ছি?’ তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাগা এখন শেষ, পুরোপুরি শেষ। আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। আমরা আর ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পকে চিনি না।’

মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে ঘিরে তার রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যেও ভাঙন তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী সহযোগী ও সাবেক কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। মঙ্গলবার ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো কেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। এতে তিনি ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধে সমর্থন দিতে পারছি না। ইরান আমাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনও হুমকি ছিল না এবং স্পষ্টতই ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।’

গত মাসে হোয়াইট হাউসের রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশন থেকে বোলারকে সরিয়ে দেয়া হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। একটি শুনানিকে ‘ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা’ করার অভিযোগে তাকে অপসারণ করা হয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করছেন, বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এই নীতির মূল ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বোলার দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। তার মতে, সাধারণ রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যেও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ম্যাগা সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলি এবং সাধারণ আমেরিকানরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তারা মনে করে, ইসরায়েলের কারণেই আমরা এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছি।’

শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা আর এমন কোনও রাজনীতিককে ভোট দেব না, যারা মিথ্যা বলে যে তারা দুর্নীতি দূর করবে এবং বিদেশি যুদ্ধে জড়াবে না। ট্রাম্প আমাদের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, ম্যাগা আন্দোলনের সঙ্গেও তাই করেছেন। এ নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ।’

No comments