শিরোনাম

করের বোঝায় পিছিয়ে দেশের সুপারশপ

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

নিত্যপ্রয়োজনীয় খুচরা ভোগ্যপণ্য কিনতে সুপারশপের ওপর নির্ভর করে দেশের প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ। অথচ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই অনুপাত অনেক বেশি। ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে সুপারশপের ক্রেতা রয়েছেন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।

শুধুমাত্র দেশের করহারের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে এই খাত।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের আধুনিক রিটেইল খাতের উন্নয়ন : প্রতিবন্ধকতা, উত্তরণের উপায় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। আলোচনার মূল প্রবন্ধে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘সুপারশপ খাতে মুনাফার সীমা ১ থেকে ৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ। সেখানে ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স প্রকৃত মুনাফায় বড় আঘাত।

এ নীতি মোট আয়ের প্রায় ৬৮ শতাংশই নিঃশেষ করে দেয়। ফলে শিল্পে পুনর্বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

এ সময় বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘কর কমানো হলে সুপার মার্কেটের সম্প্রসারণ বাড়বে। এতে সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সুপার মার্কেট সংস্কৃতি উন্নত অর্থনীতির প্রতীক। কিন্তু সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবে দেশে এই খাত প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেনি। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও খাতটি এগিয়ে যাচ্ছে। ভতুর্কি দিয়ে হলেও মালিকরা ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।’

সুপারশপগুলো সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ করে উল্লেখ করেন স্বপ্নর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির।

তিনি বলেন, ‘অতীতে দাম কমানোর কারণে প্রাণনাশের হুমকি আসত, এখন কমেছে। ভ্যাট কাঠামোর অসামঞ্জস্যতায় সুপারশপে বিনিয়োগ কমেছে। উপজেলা পর্যায়ে সেবা ছড়িয়ে দিতে সরকারি নীতি সহায়তা প্রয়োজন। এই খাতকে বড় হওয়ার সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের রাজস্ব দিতে সক্ষম হবে। রমজানসহ অন্যান্য সময় সুপারশপগুলো চাল, ডাল, চিনি ও ছোলার মতো নিত্যপণ্যের দাম বাজার মূল্যের চেয়ে কম রেখে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।’

ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘সুপারশপগুলোতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নকল বা ভেজাল পণ্যের ঝুঁকি অনেক কম থাকে, যা বহুজাতিক কম্পানিগুলোর জন্য একটি স্বস্তির জায়গা। সুপারশপের মাধ্যমে পণ্যের প্রিমিয়াম ইমেজ তৈরি করা সহজ। সাজানো গোছানো শেলফ গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা সাধারণ বাজারে সম্ভব নয়।’

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুপারশপ খাতে ন্যূনতম করের মাধ্যমে আদায় হয়েছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে ন্যূনতম করের হার ০.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করে। ব্যবসায়ে লাভ না হলেও ন্যূনতম কর নেওয়া আয়কর আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করনীতি বিভাগের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত ন্যূনতম কর পদ্ধতি প্রগতিশীল কর দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি সরকারের জন্যও খুব বেশি আনন্দের বিষয় নয়। এই করহার কমানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটি কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’

No comments