আমার তো সব শেষ হয়ে গেল
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারানো চালক আরমান খানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
নিহত আরমান খান (৩২) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খালকুলা গ্রামের আরব খানের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তিনিই সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি চালিয়েছিলেন। পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে যাত্রীদের সঙ্গে তিনিও নদীতে ডুবে যান। পরে রাতে উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। তার সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র থেকেই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরমান খানের স্ত্রী লাবনী খাতুন বর্তমানে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাদের বড় মেয়ে আমেনা খাতুন শহিদ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে তায়েবা খাতুনের বয়স মাত্র পাঁচ বছর।
স্বামীর অকাল মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন লাবনী খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিল- কাজে যাচ্ছি, ঈদের সাত দিন পর ফিরব। কিন্তু ফিরল তো লাশ হয়ে। এখন আমার সন্তানদের কে দেখবে? আমার তো সব শেষ হয়ে গেল।
এক মুহূর্তেই থমকে গেছে এই পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্বজনদের।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আরমানের এই অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আরমানের স্ত্রীর হাতে এই সহায়তার চেক তুলে দেয়া হয়।

No comments