শিরোনাম

পাম্প ম্যানেজারকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক আটক

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাতকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬, যশোর) সদস্যরা তাকে আটক করে। 

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ওই ব্যক্তির নাম নাহিদ সরদার (৩৫)। এ সময় আহত নাহিদের বন্ধু জিহাদুল মোল্যা (২৯)। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত নাহিদ উপজেলার তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে। তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।

জানা যায়, গতকাল রাতে নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশনে ট্রাকে তেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় পাম্পের ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালক তর্কে জড়ায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ম্যানেজার নাহিদকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। পরে রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে পাম্পের কাজ সেরে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। তখন সুজাত ট্রাক ঘুরিয়ে নাহিদের পেছন পেছন রওনা দেয়। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পেছন থেকে ট্রাকচালক সুজাত নাহিদের গাড়ি লক্ষ্য করে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সর্দার নিহত হন। গুরুতর আহত জিহাদুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আজ সকালে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। স্ত্রী আফিয়া খাতুন ও মা শিউলি বেগমসহ কয়েকজন আহাজারি করছেন। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাহিদের শিশুকন্যাটি ঘুমিয়ে আছে। তাদের চারপাশ ঘিরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনেরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিউলি বেগম বলেন, ‘আমার বাবারে বিনা দুষি মারিছে। আমি এহন সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার একটা বাচ্চা, আর কেউ নেই আমার। আমার বাজান কারও সঙ্গে কোনো অপরাধ করে না। আমি আজকে কী করে ঘরের তলে মাথা দিবানিরে বাজান।’

স্থানীয় লোকজন জানান, নাহিদদের পুরো পরিবার অত্যন্ত নম্র-ভদ্র। এলাকায় কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব নেই। অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত মোল্যার বাড়িও একই গ্রামে। নাহিদদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে। একই এলাকায় বাড়ি হলেও সুজাতের সঙ্গে নাহিদের আগে কোনো বিরোধ ছিল না।

No comments