ইরানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট কি তুরস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে তুরস্ক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এই সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল বা ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান শক্তির ভারসাম্য ভেঙে পড়বে এবং পরবর্তী চাপ তুরস্কের ওপরও আসতে পারে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান শুরু থেকেই ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এতে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সীমিত সংঘাত হিসেবে থাকবে না; বরং তা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই যুদ্ধ শুধু সামরিক নয়, বরং জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য পথ ও আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দাম বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়বে, যার প্রভাব তুরস্কসহ অনেক দেশের অর্থনীতিতে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ইরানের নীতির সঙ্গে সব ক্ষেত্রে একমত না হলেও দেশটির সম্পূর্ণ পতনকে আঙ্কারা বিপজ্জনক মনে করছে। কারণ ইরানে গৃহযুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তা ইরাক, সিরিয়া এবং ককেশাস অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সরাসরি তুরস্কের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে।
এদিকে কিছু ইসরায়েলি রাজনীতিক তুরস্ককে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করায় আঙ্কারায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে তুরস্ক একদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করছে, অন্যদিকে নিজের নিরাপত্তা প্রস্তুতিও বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঙ্কারা আশঙ্কা করছে-ইরানের পর আঞ্চলিক ক্ষমতার নতুন সংঘাতে তুরস্কও লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আরটি ওয়ার্ল্ড

No comments