শিরোনাম

লেবাননে হামলায় নিষিদ্ধ ‘শ্বেত ফসফরাস’ ব্যবহার করেছে ইসরায়েল



চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে স্থল অভিযান শুরু করার ঠিক আগে বেসামরিক এলাকায় ভয়াবহ ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদান শ্বেত ফসফরাস নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।

রোববার (১৫ মার্চ) রাতে দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম শহরে এই হামলা চালানো হয়, যার ভিডিও চিত্র ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নোভারা মিডিয়া এর সত্যতা যাচাই করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর আগে গত ৩ মার্চও লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েল কর্তৃক এই ক্ষয়কারী রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিল। সোমবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সীমিত ও লক্ষ্যভেদী স্থল অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ঘটনাটি ঘটে।

শ্বেত ফসফরাস একটি অত্যন্ত দাহ্য এবং ক্ষয়কারী রাসায়নিক উপাদান যা অক্সিজেন বা বাতাসের সংস্পর্শে আসামাত্র জ্বলে ওঠে এবং মানুষের টিস্যুসহ যেকোনো বস্তুকে মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে ফেলে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জনবহুল বা বেসামরিক এলাকায় এর আক্রমণাত্মক ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এইচআরডব্লিউ-এর লেবানন বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস সতর্ক করে বলেছেন যে, আবাসিক এলাকায় শ্বেত ফসফরাসের এই বেআইনি ব্যবহার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। এর ফলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে অথবা এমন নৃশংস জখম হতে পারে যার যন্ত্রণা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

নোভারা মিডিয়ার ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিস্ফোরণটি খিয়াম নামক একটি ছোট শহরে ঘটেছে যা কৌশলগতভাবে হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও কিছু বিশ্লেষক দাবি করেছেন যে এই গোলাবারুদগুলো পাহাড়ের পাদদেশে জনশূন্য স্থানে ফেলা হয়েছে, তবে ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে যে খিয়াম শহর এবং পাহাড়ের মধ্যবর্তী ১৫ কিলোমিটার এলাকায় মারি, দারজাত এবং হালতার মতো বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে।

স্বতন্ত্র সাংবাদিক সারাহ আবদুল্লাহ এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েল ঘরবাড়ি এবং বেসামরিক এলাকায় এই নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে যা সরাসরি জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক শ্বেত ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছিল এইচআরডব্লিউ।

২০১৩ সালে ইসরায়েলি হাই কোর্ট বেসামরিক জনসংখ্যার ওপর শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল, যদিও ২০০৮-২০০৯ সালের গাজা যুদ্ধে আইডিএফ-এর বিরুদ্ধে এই রাসায়নিকের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলের বর্ধিত সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন, যা ওই অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।

সূত্র: নোভারা মিডিয়া

No comments