ইরান যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন অধিকাংশ মার্কিন ভোটার
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ভোটার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং তারা মনে করেন যে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরায়েলের জন্যই বেশি সুবিধাজনক।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত এক নতুন জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ‘ডিমান্ড প্রগ্রেস’ এবং আইএমইউ (ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং) পলিসি প্রজেক্টের জন্য ‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’ নামক সংস্থা এই জরিপটি পরিচালনা করে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন যে এই যুদ্ধ থেকে ইসরায়েলই বেশি লাভবান হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২৯ শতাংশ ভোটার মনে করেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী। সামগ্রিকভাবে ৫৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ইরানের ওপর মার্কিন হামলার সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, যেখানে ৪৩ শতাংশ মানুষ এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে ১ হাজার ২১৫ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে যে, ৫১ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করতে কংগ্রেসের মাধ্যমে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ পাসের পক্ষে মত দিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবেও রিপাবলিকান দল এই যুদ্ধের কারণে চাপে রয়েছে।
প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের ফলে তারা রিপাবলিকানদের সমর্থন করার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এক বিশাল প্রজন্মগত ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। ৪৫ বছরের কম বয়সী রিপাবলিকানদের ৬৮ শতাংশই এমন প্রার্থীকে পছন্দ করছেন যারা ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দেবেন। অন্যদিকে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকানদের ৫৬ শতাংশ এখনও ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে রয়েছেন।
জরিপ অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটিক দলের যেসব প্রার্থী অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমানোর পক্ষে কথা বলছেন, তারা প্রথাগত অবস্থানের প্রার্থীদের তুলনায় জনসমর্থনে অনেক এগিয়ে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান অভিমুখে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬০ জনের বেশি শিশু রয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে ইরান ইতিমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যাকে তারা ওই অঞ্চলে ‘মার্কিন সম্পদ’ লক্ষ্য করে আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন ভোটারদের এই ক্রমবর্ধমান অনীহা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
No comments