শিরোনাম

কথা বলতে জড়তা, অথচ কোরআন তিলাওয়াতে সুরের জাদু



চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

মানুষের ইচ্ছা আর আল্লাহর অশেষ রহমত থাকলে যে কোনও শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাধা হতে পারে না, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের শিশু হাফেজ তাকমিল উদ্দিন মিকাইল। সাধারণ কথোপকথনে যার কণ্ঠ জড়িয়ে যায়, শব্দগুলো যেন ঠোঁটের কোণে এসে থমকে দাঁড়ায়, সেই তাকমিলই যখন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শুরু করে, তখন তার কণ্ঠ হয়ে ওঠে অনর্গল ও সাবলীল। মুগ্ধকর সেই সুরেলা তিলাওয়াতে অভিভূত হন এলাকাবাসী।

সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তসলিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে তাকমিল। স্থানীয় তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসা থেকে মাত্র সাত মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে সে এক বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছে। বর্তমানে তাকমিল স্থানীয় মসজিদে তারাবি নামাজে ইমামতি করছেন।

নিজের জড়তার বিষয়ে তাকমিল উদ্দিন মিকাইল বলেন, ছোটবেলা থেকেই কথা বলতে গেলে আমার কণ্ঠ আটকে যায়। অনেক সময় ঠিকভাবে কথা বলতে কষ্ট হয়। তবে যখন কুরআন তিলাওয়াত করি, তখন আল্লাহর রহমতে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। তখন আর কোনও জড়তা অনুভব করি না। আমি চাই নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করে মানুষের মাঝে এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিতে। আমি বড় আলেম হতে চাই।

তাকমিলের সহপাঠী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তাকমিল আমাদের খুব প্রিয় বন্ধু। সাধারণ কথাবার্তায় তার একটু জড়তা আছে, কিন্তু তিলাওয়াত শুরু করলে আমরা সবাই অবাক হয়ে শুনি। তার কণ্ঠে কুরআন খুব সুন্দর শোনায়। আমরা তার জন্য গর্বিত।

তাকমিলের হিফজ শিক্ষক এমদাদ উল্লাহ মহাজির বলেন, তাকমিল অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার তিলাওয়াতে মাধুর্য আছে এবং সে খুব মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সে আরও বড় আলেম ও ক্বারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মো. নাছরুল্লাহ বলেন, তাকমিলের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ এক প্রতিভা দিয়েছেন। কথা বলার সময় তার জড়তা থাকলেও কুরআন তিলাওয়াতের সময় সে অত্যন্ত সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তার এই অদম্য চেষ্টা ও আগ্রহ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আকিব ওসমান বলেন, জড়তা থাকা সত্ত্বেও তাকমিল উদ্দিন মিকাইলের অনর্গল কুরআন পড়তে পারা একটা অলৌকিকতা। এছাড়াও সে সাত মাসে হাফেজ হয়েছে। এই অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়। তার মতো প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের গর্ব। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

No comments