বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ায় পরকীয়ার সম্পর্ক ধামাচাপা দিতে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা পর্নোগ্রাফি মামলা করার অভিযোগ উঠেছে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ডেন্টাল সহকারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীকে কয়েকদিন জেল খাটতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার ডেন্টাল সহকারী তানজিলা বেগমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার মোকামতলা এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের স্ত্রী।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক শাহ আলম বরাবর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, তানজিলা বেগম প্রথমে কমিশনের ভিত্তিতে হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়ার কাজ করতেন। সে সময় হাসপাতালের কাউন্টারে কর্মরত খোরশেদ হোসেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগে বলা হয়, তানজিলা রোগী না আনলেও তার নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলন করা হতো।
পরবর্তীতে তানজিলার স্বামী আমিনুল ইসলামের প্রচেষ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস আগে তাকে ডেন্টাল সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর খোরশেদ হোসেনের সঙ্গে তানজিলার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১২ মে ২০২৫ তারিখ রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তিনি নিজের বাসা থেকে তানজিলা ও খোরশেদকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন। পরে তানজিলা তার ভুল স্বীকার করলে খোরশেদকে মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর পরকীয়ার বিষয়টি আড়াল করতে তানজিলা তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই মামলায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ আমিনুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
আমিনুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ার আগেই গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তানজিলা তাকে তালাক দেন বলেও জানা গেছে।
তবে মামলা হওয়ার আগেই তানজিলা ও খোরশেদের বিরুদ্ধে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেন আমিনুল, যা এখনো তদন্তের আলো দেখেনি।
এ বিষয়ে খোরশেদ হোসেন বলেন, “সেদিন আমি তানজিলার বাসায় গিয়েছিলাম, সে আমাকে ডেকেছিল।”
অন্যদিকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এ ধরনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছি।”
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার স্ত্রীর সঙ্গে খোরশেদের পরকীয়ার সম্পর্ক ধামাচাপা দিতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা পর্নোগ্রাফি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে যে দোষী হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
No comments