শিরোনাম

নববধূর মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যার দাবি ছাপিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

হাতের মেহেদীর রঙ এখনো মোছেনি, কাটেনি বিয়ের রেশ। অথচ মাত্র এক মাস ১৯ দিনের মাথায় স্বামীর ঘর থেকে উদ্ধার হলো ১৯ বছর বয়সী নববধূ ঝুমা আক্তারের মরদেহ। এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে। পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা, অন্যদিকে স্বামীর পরিবার বলছে আত্মহত্যা।

গত ১৯ মার্চ দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার শয়নকক্ষ থেকে ঝুমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বামীর পরিবারের দাবি, ঝুমা বাথরুমের ভেন্টিলেশনের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। 

নিহতের পরিবারের দাবি, ঝুমা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তাদের অভিযোগ, স্বামী মো. নেওয়াজ শরীফের সঙ্গে অন্য এক নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল।

ঝুমার বড় বোন শামীমা আক্তার রুমি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার বোন আমাকে তার কষ্টের কথা জানাত। তার স্বামী স্বাভাবিক আচরণ করত না।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে ঝুমা তাকে একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠান। সেখানে নেওয়াজ শরীফকে এক নারীর সঙ্গে কথোপকথনে বলতে শোনা যায়, ‘আমিতো বলছি, তোমাকে বিয়ে করব, সমস্যা নাই। এরপরও যদি এরকম কর তাহলেতো আর কিছু করার নাই। মানুষ মানুষকে এভাবে অবিশ্বাস করা যায় না। তুমি অনলাইনে আছো, আমি কল দিচ্ছি, অথচ তুমি বলতেছো এমবি নাই।’

তবে নিহতের বড় ভাই তৌহিদুল আলম বলেন, ‘আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

এই ঘটনায় আজ রোববার (২২ মার্চ) নিহতের পিতা মো. শাহআলম বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বামী নেওয়াজ শরীফকে। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।’

No comments