ছুটির দিনে অফিস সহকারীর গোপনে সরকারি বই বিক্রির চেষ্টা
নওগাঁর পোরশায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি বই গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে টেন্ডার ছাড়াই ওই কর্মচারীর যোগসাজশে বই বিক্রির সময় স্থানীয়রা অটোচালককে আটকের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বইগুলো অফিস সহকারী আমানত আলীর (৪৬) কাছ থেকে কিনেছিলেন তাইফুর আলী (৪৬) নামের এক ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নিতপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ গেটে প্রায় ৭০০ কেজি বই পাচারের সময় স্থানীয় জনগণ বইগুলো আটক করে।
অভিযুক্ত বিক্রেতা আমানত আলী উপজেলার নিতপুর মাস্টারপাড়ার মৃত বিসমিল্লাহ’র ছেলে। এবং পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। আর ক্রেতা তাইফুর আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কালিতলা কুজারমোড় এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য দেওয়া বিনা মূল্যের সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করার সময় আটকের পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
অপরদিকে জব্দকৃত বইসহ অটোরিকশা চালককে জনগণের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বই বহনকারী অটোরিকশার চালক অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি এসব বই অফিস সহকারী আমানত আলীর কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া হিসেবে বইগুলো বহন করছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে একটি অটোরিকশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। এবং অফিসের কর্মচারী আমানত আলীর যোগসাজশে সরকারি প্রায় ৭০০ কেজি বই অটোরিকশায় নিয়ে যেতে লাগে। বইগুলো আমানত আলীর কাছ থেকে কিনেছিলেন তাইফুর আলী নামের এক ব্যক্তি। আর তাইফুরের ভাড়া হিসেবে বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন অটোরিকশা চালক। রিকশাটি উপজেলার নিতপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ গেটে পৌঁছার পর স্থানীয়রা জানতে পেরে অটোরিকশাটি আটকে দেয়। সেই সাথে অটোচালককে আটকে রেখে ইউএনওকে খবর দেন। এবং ইউএনও’র পরামর্শে জব্দকৃত বইসহ ভ্যান চালককে তার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার সময় বিক্রেতা ও ক্রেতা কেউ উপস্থিত ছিলনা। জানাজানির পর তারা সকলেই সটকে পড়ে। এদিকে, সরকারি বই গোপনে বিক্রির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, বিক্রিত বইগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি বই বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, অভিযুক্ত আমানত আলী প্রথমে এই অফিসে পিয়ন পোষ্টে চাকুরী করতেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পেয়ে সাপাহার মাধ্যমিক অফিসে বদলি হন। আবারও তিনি তদবির করে পোরশা মাধ্যমিক অফিসে বদলি হয়ে আসেন। আমানত আলী স্থানীয় হওয়ার কারণে বরাবরই তিনি অফিসে বেপরোয়া চলাফেরা সহ বিভিন্ন দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। একাধিক শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ সহ টাকা ছাড়া কোন কাজ করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আমানত আলী মুঠোফোনে বলেন, একজনের অনুরোধে বইগুলো দিয়েছিলাম। এছাড়া পরিস্কার করার জন্য বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। আমি কোনো টাকা নিইনি। তবে এটা আমার ভুল হয়েছে। আর অন্য সকল অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। আমি সামান্য একজন কর্মচারী। আমি খুব ভালো ভাবে কাজ করি।
সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও পোরশার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শামসুল কবীর
মুঠোফোনে বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি ইউএনও মহোদয় আমাকে জানানোর পর আমি আমানত আলীকে ফোন দিই। এরপর সে গোডাউন পরিস্কারের অজুহাত দেয় আমাকে। এবং সে বলে বইগুলো ২৪ সালের পুরাতন। কিন্তু যতই পুরাতন বই হোক সংশ্লিষ্ট কারো অনুমতি ছাড়া কোনো বই বিক্রি করা যাবেনা। আমানত আলী এটা অন্যায় করেছে। আমি ঈদের পর এসে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জানতে চাইলে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমার কাছে বইগুলো জব্দ আছে। এবং বইগুলো যে নিয়ে যাচ্ছিল, তার স্টেটমেন্ট নেওয়া আছে। আর সেখানে ভ্যান চালক ছাড়া শিক্ষা অফিসের কাউকে পাওয়া যায়নি। আমি চেয়েছিলাম একটা মামলা হোক। কিন্তু যাদের ডিপার্টমেন্ট তাদের কেউ ছিলনা। অফিস ছুটি থাকার কারণে শিক্ষা অফিসের কেউ ছিলনা। তবে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে দিবো। এখন শিক্ষা অফিস কিভাবে এটা নিষ্পত্তি করবে, সেটা দেখার বিষয়।

No comments