অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক! কাহালুতে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে ‘বিউটির সাম্রাজ্য’
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
সরকারি অফিস চলাকালীন সময়েই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে এই আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম উপেক্ষা করে উপজেলা অফিসের সকল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রেখে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে পিকনিকে অংশ নেন তিনি। কাহালু উপজেলার বীরকেদার বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে অবস্থিত রাবেয়া পার্কে ওই পিকনিকের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে বগুড়ার কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অফিসটি কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সবাই রাবেয়া পার্কে ‘আলু ঘাঁটি’ উৎসবে গেছেন।
তাদের দাবি, অফিসের প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে এই পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে উপজেলা অফিস থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রাবেয়া পার্কে গিয়ে দেখা যায়, দুটি সেড ভাড়া নিয়ে রান্নাবান্নাসহ জমজমাট পিকনিক চলছে। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি লটারির আয়োজনও করা হয়।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক বা উৎসব আয়োজনের কোনো বিধান নেই। সাধারণত সরকারি ছুটির দিন ছাড়া এ ধরনের আয়োজন করা যায় না।
এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতেও কর্মদিবসে অফিস বন্ধ রেখে এ ধরনের আয়োজনের নজির খুবই কম।
এদিকে কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটির বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বগুড়ায় যোগদানের পর নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব উপজেলায় কর্মরত অবস্থায়ও কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, টিএ বিল, এলপিআর ও পেনশন সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করাতে হলে তাকে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে কোনো বিল স্বাক্ষর করেন না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মচারী।
এছাড়া সম্প্রতি চাকরি স্থায়ী করার কথা বলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মচারীর কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে দলীয় কর্মসূচিতে কর্মচারীদের উপস্থিত হতে বাধ্য করা এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিসে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র বলেন, “অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক বা উৎসব করার কোনো সুযোগ নেই। ছুটির দিনে এমন আয়োজন করা যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি অনৈতিক সুবিধা বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটি। তিনি বলেন, “বীরকেদারে একটি মিটিং ছিল। সেই মিটিং শেষে আলু ঘাঁটি উৎসবে গিয়েছি। কর্মচারীরা আনন্দের জন্য এই আয়োজন করেছে, আমি শুধু অংশগ্রহণ করেছি।”
অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “সারাদিন অফিস বন্ধ ছিল না, তবে কিছু সময় বন্ধ ছিল। সরকারি নিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় হয়েছে।”
No comments