ঈদের ছুটিতে বগুড়ায় ৩ হত্যা, ৫ সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় ৩টি হত্যাকাণ্ড, ৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ও একটি অপমৃত্যুসহ পুথক ঘটনায় মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ট্রেন লাইনচ্যুতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৮ মার্চ সকালে শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায়। ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এতে একই পরিবারের চারজন নিহত হন এবং অন্তত ছয়জন আহত হন।
এর আগে ১৮ মার্চ দুপুরে আদমদীঘির সান্তাহার এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হন। এতে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ প্রায় ২১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
একই দিন রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় এক নারী নিহত হন।
এর তিন দিন পর, ২২ মার্চ নন্দীগ্রামে ট্রাকচাপায় উৎসব (১৩) নামে এক কিশোর নিহত হয়। একই দিন সারিয়াকান্দিতে অটোরিকশার ধাক্কায় রহিমা খাতুন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
এছাড়া গাবতলীতে নসিমন ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ফাহিমা খাতুন (২৫) নামে এক নারী নিহত হন এবং তার মেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিকালে গাবতলীর রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের সাঘাটিয়া গ্রামে ডোবা থেকে সেচ পাম্পের সাহায্যে মাছ ধরার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহিনুর ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি মারা যান।
অপরদিকে ঈদের ছুটিতে হত্যাকাণ্ডে নিহতরা হলেন—আদমদীঘিতে গৃহবধূ রিমু বেগম (১৯), একই উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) এবং বগুড়া সদরে ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরিফুল ইসলাম মুন্না (৫১)।
এছাড়া, শাজাহানপুর উপজেলায় আত্মগোপনে থাকা এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার পরিত্যক্ত বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কৃষিপণ্যসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

No comments