শিরোনাম

২১ দিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন হিরো আলম

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

আলোচিত ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ আশরাফুল আলম ওরফে (হিরো আলম) ২১ দিন কারাভোগের পর অবশেষে ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্ত পেয়েছেন। 

মিথিলা নামক একটি মেয়েকে নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, এমন একটি মামলায় মঙ্গলবার ১১ মার্চ বিকাল ৫ টার সময় বগুড়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কারাগার থেকে বেরিয়েই তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে আসন্ন উপ-নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ ঠেকাতেই তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার পেছনে ‘ষড়যন্ত্র’ অভিযোগ

কারামুক্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হিরো আলম বলেন, তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই একের পর এক মামলা দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী গত ৪ মার্চ বুধবার তিনি জামিন পেলেও মুক্তির ঠিক আগ মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে নতুন আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

সামনে বগুড়ার উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

জনৈক মিথিলা নামের এক তরুণীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলাকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেন। হিরো আলম বলেন, “নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখানোর গল্পটি পুরোপুরি সাজানো। আমাকে রাজনৈতিকভাবে থামানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে।”

জেলের ভেতরের বাস্তবতা কারাগারে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, আগের তুলনায় এখন জেলের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে। তার মতে ২০১৯ সালের তুলনায় বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ ও কর্মকর্তাদের ব্যবহার অনেক ভালো।

বিশেষ করে জেলার কর্মকর্তার মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি একটি উদ্বেগজনক চিত্রও তুলে ধরেন। তার দাবি, কারাগারে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই মিথ্যা মামলায় ফেঁসে আছেন। অনেককে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই বছরের পর বছর হাজতে থাকতে হচ্ছে, যা একটি পরিবারের জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগ তৈরি করছে।

এ সময় খাবারের মান নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি, হিরো আলম বলেন, কারাগারের খাবারের মান আরও উন্নত করা দরকার। প্রতিদিন একই ধরনের ডাল-সবজি না দিয়ে মেন্যুতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দেন তিনি। আলোচিত বন্দিদের দেখা কারাগারে থাকার সময় বেশ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিকে দেখেছেন বলেও জানান হিরো আলম। তাদের মধ্যে রয়েছেন পাপিয়া এনামুল হক প্রদীপ কুমার দাসসহ আরও অনেকেই। 

সবশেষে হিরো আলম স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এই মামলাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন এবং এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। কোনো ধরনের আপস না করে আদালতের মাধ্যমেই সত্য প্রমাণ করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আমি অন্যায় করিনি। তাই আইনের পথেই লড়াই চালিয়ে যাব।”

No comments