ইরান যুদ্ধের ধাক্কা, এক মাসে আরব দেশগুলোর ক্ষতি ১৯৪ বিলিয়ন ডলার
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
ইরানকে ঘিরে এক মাসের যুদ্ধ শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, আরব দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের সরাসরি ও পরোক্ষ ধাক্কায় আরব দেশগুলোর অর্থনীতি প্রায় দুইশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং আরও লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় আরব দেশগুলোতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসের এই যুদ্ধে অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৩.৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অর্থের হিসেবে এই সংকোচন দাঁড়ায় প্রায় ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার (১২ হাজার কোটি থেকে ১৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার)।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর জন্য ইউএনডিপির আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩৭ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। তিনি বলেন, এই সংঘাত আরব অর্থনীতির ‘ভঙ্গুর অবস্থা’ স্পষ্ট করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনটি চার সপ্তাহব্যাপী ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র’ সংঘাতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে সতর্ক করা হয়, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল ও গ্যাস রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তেলের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারের বেশি হয়। এতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য প্রবাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়ছে। আর এটি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্পরিক নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলোতে জীবিকা সংকট তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে লেভান্ট অঞ্চল তথা ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে— বিশেষ করে সুদান ও ইয়েমেনে। কারণ সেখানে আগে থেকেই পরিস্থিতি নাজুক এবং সামান্য সংকটেই মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবানন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালালে দেশটি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে লাগাতার বিমান হামলা, মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ, আবাসিক এলাকা, পরিবহন অবকাঠামো ও জনসেবামূলক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং বড় পরিসরে বাস্তুচ্যুতি দেখা গেছে।
আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘আমরা আশা করি লড়াই আগামীকালই থেমে যাবে, কারণ সংঘাত অবসানে একটি দিনও দেরি হওয়া মানে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়া।’
No comments