শিরোনাম

প্রবাসীকে ফাঁদে ফেলে, ভূয়া কাবীননামা বানিয়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ, বগুড়ার ১ পরিবারের বিরুদ্ধে: কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাল কাবিননামা তৈরি করে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ নিউটাউন এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া (দক্ষিণপাড়া) এলাকার মিম আক্তার (২৪), তার মা রেশমা আক্তার (৪০) এবং বাবা ভুট্টু মিয়ার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জবিরুল হাসানের আদালতে দাখিল করা নালিশী দরখাস্তে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা বিয়ের কথা বলে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। 

একপর্যায়ে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে এবং একটি জাল কাবিননামা তৈরি করে বাদীর বিশ্বাস অর্জন করে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় অভিযুক্তরা বিকাশের মাধ্যমে মোট ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করে। পরে টাকা ফেরত বা বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে। এমনকি বাদী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

বাদী আরও দাবি করেন, পরে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় টাকা উদ্ধারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৯, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৩৪ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৪ জুন ২০২৬ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার সঙ্গে অভিযুক্তদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, কথিত জাল কাবিননামা ও তালাকনামা এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর লেনদেনের কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে, এই প্রতিবেদকের ফোন কল রিসিভ করে পরিচয় পেয়ে ফোনটি কেটে দিয়ে অভিযুক্ত নারী তার মুঠোফোন বন্ধ করে রাখে।

No comments