শিরোনাম

যেকোনো সময় ভারতেও গণঅভ্যুত্থান হতে পারে?

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ব্যাপক গণআন্দোলন দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও বৈদেশিক ঋণ সংকট, নেপালে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও কর্মসংস্থান ইস্যুকে ঘিরে সময়ে সময়ে বড় বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে- ভারতেও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কেন জাতীয় পর্যায়ে একই ধরনের গণঅভ্যুত্থান দেখা যায়নি? তবে এমন বিপর্যয় খুব দ্রুত নেমে আসতে পারে বলেও বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন।

ভারতে বেকারত্ব, আয় বৈষম্য, গ্রামীণ দুর্দশা ও মূল্যস্ফীতির মতো ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী উদ্যোগের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্রও তুলে ধরছে। অর্থনীতির এই দ্বৈত বাস্তবতা জনমতকে বিভক্ত করে- একদিকে অসন্তোষ, অন্যদিকে উন্নয়নের প্রত্যাশা।

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য- দুই স্তরেই সরকার পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া অসন্তোষ প্রকাশের একটি প্রাতিষ্ঠানিক পথ তৈরি করে, যা অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনকে নির্বাচনী রাজনীতির দিকে নিয়ে যায়।

ভারতের সমাজ ভাষা, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে বৈচিত্র্যময়। ফলে একটি একক ইস্যুকে ঘিরে সর্বভারতীয় ঐক্য গড়ে তোলা তুলনামূলকভাবে কঠিন। বিভিন্ন সময়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), কৃষি আইন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বড় বিক্ষোভ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী, সর্বজনীন অভ্যুত্থানে রূপ নেয়নি।

সমালোচকদের একাংশের দাবি, কঠোর নিরাপত্তা আইন ও নজরদারি ব্যবস্থার কারণে বড় আকারের আন্দোলন সংগঠিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সরকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভ্রান্ত তথ্য রোধ করাই এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। মূলধারার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণনাগত লড়াইও জনমতকে প্রভাবিত করে।

দারিদ্র্যসীমার নিচে ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন ভর্তুকি ও সরাসরি সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মসূচি একদিকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমর্থনও প্রভাবিত করতে পারে।

ভারতে বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার ব্যাপক। তবে ছাত্র ও যুব আন্দোলনগুলো প্রায়ই নির্দিষ্ট ইস্যু বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে। সংগঠিত, সর্বভারতীয় নেতৃত্বের অভাবও বড় আকারের অভ্যুত্থান না হওয়ার একটি কারণ হিসেবে আলোচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায় যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বিস্তৃত জনঅসন্তোষ একত্রিত হলে বড় আন্দোলন তৈরি হতে পারে।

No comments