শিরোনাম

হাত বাড়ালেই মেলে মাদক

মোঃ ইমরুল হাসান উদয়, স্টাফ রিপোর্টার ঃ

বগুড়া জেলার গাবতলী থানার অন্তর্গত মহিষাবান ইউনিয়নে মাদকদ্রব্যের অবাধ বিস্তার জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও আশপাশের এলাকায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট, ইয়াবা, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের এলকোহলজাত নেশাদ্রব্য।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদক কেনাবেচা চলছে। বাজারসংলগ্ন অলিগলি ও নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অবৈধ কারবার পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহজলভ্য মাদকের কারণে কিশোর ও তরুণ সমাজ দ্রুত নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষার্থীও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় ছোটখাটো চুরি, দোকানে চুরির ঘটনা ও ছিনতাই বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্রমেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযানের অভাবে মাদক কারবারিরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী ফল বয়ে আনছে না বলে মনে করছেন তারা।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কখনো কখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হলেও তা সীমিত পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে। এসব অভিযানের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক কারবার আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাদের অভিযোগ, গাবতলী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত বা দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দুর্বল উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মাদক চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মহিষাবান ইউনিয়নের রানির পাড়া, পার-রানির পাড়া, ত্রিমোহনি এলাকা এবং হাটখোলা বাজারে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাবাড়ি বাজারে দিনের আলোতেই জনসম্মুখে অবাধে মাদক কেনাবেচা চললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

অতিষ্ঠ এলাকাবাসী দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গোপন নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদক চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গোলাবাড়ি বাজারসহ পুরো এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।

No comments