বেলুচিস্তানে হামলা ও অভিযানে নিহত ২০০
চ্যানেল টেন ডেস্ক ঃ
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিষিদ্ধ বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সহযোগীরা গত শনিবার ১২টি শহরে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে অন্তত আট নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৯২ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। অভিযানে ১৫ সেনাসদস্যও নিহত হন। এ ছাড়া ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ হামলার নকশা বিদেশ থেকে করা হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত ৪০ ঘণ্টায় ১৪৫ ‘সন্ত্রাসী’, ১৭ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ৩১ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গতকাল বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও এমন তথ্য জানিয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্যরা কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, তাম্প, গোয়াদর ও পাসনি এলাকায় একযোগে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ ১৮ জন নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে।
আইএসপিআর বলেছে, ‘হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। অভিযানে তিন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ ৯২ সন্ত্রাসী নিহত হয়। লড়াইয়ে ১৫ সেনাসদস্য বীরত্বের সঙ্গে প্রাণ দেন। এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসীদের মূলহোতা ও সহায়তাকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোথায় বসে এসব করছে, তার অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আমরা বিশ্ববাসীর কাছে তাদের মুখোশ খুলে দেব।’
মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পুরো বেলুচ পরিবারও রয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঞ্জাব থেকে বেলুচিস্তানে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ডেরা গাজি খান শহরের পুলিশ উপকমিশনার উসমান খালিদ বলেন, ফোর্ট মুনরো হাইওয়ে ও তৌনসা-মুসা খেল সড়ক দিয়ে যান চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ওই হামলাকে সন্ত্রাসীদের একটি ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
No comments