শিরোনাম

জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, চাকরি হারালেন মোয়াজ্জিন

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় মোয়াজ্জিন মো. ইব্রাহিম সরকারকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উল্লাপাড়ার ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন হিসাবে চাকরিরত ছিলেন।

ইব্রাহিম সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ অভিযোগে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে মসজিদ কমিটির কাছে মসজিদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করে মসজিদ কমিটির কাছে চাবি হস্তান্তর করে চলে যেতে হয়েছে তাকে।

তবে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছেন, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি জামায়াতের প্রচারণা অব্যাহত রাখার কথা বলে নিজেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইব্রাহিম সরকারের একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মোয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকার অভিযোগ করেন, তিনি অনেক আগে থেকেই জামায়াতের রাজনীতিকে সমর্থন করেন। এই কারণে গত ৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায় প্রকাশ্যে মাইকে বক্তব্য দেন এবং প্রচারণা করেন। এ কারণে মসজিদ কমিটির নেতারা তাকে ডেকে মসজিদে চাকরিরত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা করা যাবে না বলে সর্তক করেন। এ সময় তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় জামায়াতের রাজনীতি না ছাড়লে মসজিদে আর তাকে রাখা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে তার কাছে মসজিদের পাওনা টাকা ও চাবি দ্রুত হস্তান্তর করার নির্দেশনা দেন। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি রাতে মসজিদ কমিটির সম্পাদকের কাছে মসজিদের পাওনা ৫ হাজার ‎‎৭শ হাজার টাকা ও চাবি হস্তান্তর করে মসজিদ ত্যাগ করেন। 

ইব্রাহিম সরকার আরও অভিযোগ করেন, তিনি ১৪ বছর ধরে এই মসজিদে মোয়াজ্জিনের চাকরি করে পরিবার পরিজন পরিচালনা করে আসছেন। জামায়াতের রাজনীতি সমর্থন করলেও এর আগে মসজিদ কমিটির কোন সদস্য তাকে চাকরি ছাড়ার কথা বলেননি। বর্তামান এই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সমর্থক হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখন তিনি তার পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। 

মোয়াজ্জিনের অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অরুন খান বলেন, এই মসজিদটি গ্রামের সব দল ও মতের মানুষের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। মোয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকার জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি প্রকাশ্যে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে রাস্তায় রাস্তায় মাইকে প্রচারণা করায় গ্রামের বিএনপি সমর্থিত লোকজন ইব্রাহিম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বিষয়টি ইব্রাহিম সরকারকে জানালে তিনি তার দল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন এবং মসজিদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করে চাবি জমা দিয়ে চলে যান। 

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জামায়াতের সমর্থক হওয়ায় ইব্রাহিম সরকারকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া মসজিদ কমিটির অন্যায় হয়েছে। রাজনীতি করার বা সমর্থন দেওয়ার অধিকার সবারই আছে। ইব্রাহিম সরকারের বিষয়টি তারা দেখবেন।

No comments