শিরোনাম

দাড়ি ‘বেশি ছোট’ করলেই শাস্তি, বিপাকে আফগান নাপিতরা



চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

আফগানিস্তানে তালেবান শাসকগোষ্ঠী নাপিতদের বিরুদ্ধে আইন না মানার অভিযোগ এনেছে। আফগানদের দাড়ি ‘অত্যন্ত ছোট’ ছাঁটার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

গত মাসে তালেবানদের নীতিনৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এখন থেকে হাতের মুঠোর চেয়ে লম্বা দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক। আগের নির্দেশনার তুলনায় এবার ‘দ্বিগুণ’ লম্বা দাড়ি রাখার বিধান চালু হয়েছে। নীতিনৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন, সরকারের দায়িত্ব সবার পোশাক-দাড়ি শরিয়াহ অনুযায়ী নিশ্চিত করা। কর্মকর্তারা শহরগুলোতে টহল দিয়ে এ বিষয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

দপ্তরের কঠোর নীতি কার্যকর করার ফলে নাপিত ও গ্রাহক উভয়কেই সমস্যায় পড়তে হয়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গজনী এলাকার এক নাপিত জানান, তাকে তিন রাত আটকে রাখা হয়েছিল, কারণ তার কর্মী এক কাস্টোমারের চুল ‘পাশ্চাত্যের স্টাইলে’ কাটেছিল। তিনি শুরুতে ঠাণ্ডা হলঘরে রাখা হয় এবং পরে শিপিং কন্টেইনারে স্থানান্তরিত হন। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি পান। নাপিতরা টহলকর্মীদের আগমনে লুকিয়ে থাকেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের আইন ভঙ্গের অভিযোগে গত বছর কুনার প্রদেশে তিন নাপিতকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তালেবান ধর্ম মন্ত্রণালয়ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে মসজিদের ইমামদের কাছে পাঠানো আট পৃষ্ঠার নির্দেশনায় দাড়ি কেটে ফেলা ‘বড় ধরনের অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নামাজের খুতবার সময় এ বিষয় তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন, দাড়ি না রাখলে পুরুষরা ‘নারীদের মতো’ দেখাতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ২২ বছর বয়সি শিক্ষার্থী বলেন, ‘বেশভূষা ইসলামিক না হলে আমাদের পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।’ রাজধানী কাবুলে ২৫ বছর বয়সি এক নাপিতও মন্তব্য করেছেন, দাড়ি ও চুলের দৈর্ঘ্য ব্যক্তিগত বিষয় হওয়া উচিত, তবে এখন তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী খালিদ হানাফি এ যুক্তি উড়িয়ে বলেন, ‘শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক; ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কোনো প্রাসঙ্গিকতা রাখে না।’

No comments