গাজীপুরের ডিবির এস আই মাসুদ মানেই ঘুষ বানিজ্যের শীর্ষে
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
চৌকস পুলিশদেরকে নিয়ে প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপার ও মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের অভিযানিক কাজের সহায়ক হিসেবে থানা পুলিশ ছাড়াও তাদের আরেকটি নিজস্ব টিম কাজ করে যার নাম ডিবি। ডিবি সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ কাজগুলো সাহসিকতা ও সতর্কতার সহিদ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে বলেই জনগণ তাদেরকে আস্থাভাজন হিসেবে মনে করে।
কিন্তু গাজীপুর মেট্রোপলিটন ডিবি উত্তর বিভাগে কর্মরত এস আই মাসুদের কারণে গাজীপুরের পুরো ডিবির নামে কলঙ্কের ছাপ পরুক সেটি কখনই ডিবি চায় না, তেমনই সাধারণ জনগণ বা সুশীল সমাজের লোকজনও তাহা কামনা করে না। তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, এস আই মাসুদ (ডিবি-উত্তর বিভাগ) গত এপ্রিল ২০২৫ইং তারিখে সদর থানাধীন পম ভূরুলিয়ার আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মো. ইকবালের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা পেয়ে নিয়ে আসে এবং তার স্ত্রী কণার নিকট থেকে ইকবালের মোবাইল নাম্বার (যার নং-০১৭২০-০২০৮৯৮) নিয়ে ইকবালকে এই বলে হুমকি প্রদান করে যে, এক সপ্তাহের ভিতর পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে আমার সাথে দেখা করবে তা না হলে তুকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করবো। পরে ইকবাল ৫ লক্ষ টাকা এসআই মাসুদকে প্রদান করে। কিন্তু
নাছোরবান্দা এসআই মাসুদ আবারও ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ইং তারিখে ইকবালকে ধরতে তার বাড়ীতে গিয়ে ইকবালকে না পেয়ে তার স্ত্রী কণাকে ভয়ভীতি প্রদান করে বলে যে, এই মূহুর্তে দুই লক্ষ টাকা দে, তা না হলে তোর স্বামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করব। পরে ইকবালের স্ত্রী কণা অপারগ হয়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজার সংগ্রহ করে ডিবির এস আই মাসুদ এর নিকট দেয়। এদিকে এস আই মাসুদ নলজানি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী কৃষ্ণা, রাণী, নুরজাহান ও নাসিমাসহ অনেকের নিকট থেকে মাসোহারা নিয়ে তাদেরকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। মাঝে মধ্যে যদিও ১/২ জন মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলেও পরবর্তীতে দায়সারা ভাবে প্রসিকিশন মামলা (জরিমানার মামলা) দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের প্রেরণ করে।
গত ১২ নভেম্বর বুধবার নলজানীর মাদকের অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী রাণী, নুরজাহান ও নাসিমাদের নিকট মাদক পেয়েও রাণীর নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা, নূরজাহানের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা ও নাসিমার নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু নাসিমার শাশুড়ী টাকা দিতে না পারায় তার মেয়েকে ধরে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দিয়ে সোপর্দ করে। গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে নাসিমার বাড়ীতে পুনরায় অভিযান চালানোর সময় নাসিমা টের পেয়ে তার নিকট ৪০টি গাঁজার পুটলা বাথরুমে ফেলে দেয়। পরে সেটি এস আই মাসুদের নেতৃত্বে ভিডিও করে নাসিমাকে আটক না করে তার নিকট থেকে ৪০ টাকা উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেয়। এই বিষয়ে দায়িত্ব উপ-পুলিশ কমিশনার অশোক পাল জানায়, যদি কেহ অন্যায় করে তাকে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
বিজ্ঞ আইনজীবী জানান, "যদি কোনো আসামীকে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেয় বা কোনো পুলিশ অফিসার কোনো আসামীকে যে অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয়, সেই অপরাধের তথ্য-উপাত্ত, আলামত গোপন রেখে লঘুদন্ডের অপরাধে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলেও ইহা অসধাচরণের সামিল। এই জন্য ঐ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ভাবে কঠোর শাস্তির আওয়ায় আনাসহ তদন্তহীন সংস্থায় বদলী করা অতিব জরুরী।"
সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজ জানায়, এসআই মাসুদ ডিবির কলঙ্ক। তাকে সাময়িক বরখাস্ত পূর্বক বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় এনে বিচার করা হউক।

No comments