প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা ৫ ও টিউলিপকে ২ বছর কারাদণ্ড
চ্যনেল টেন ডেস্ক ঃ
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ২ বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলায় রায় ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া সব আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে একজনের ১ বছর ও বাকিদের ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
৫ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা ৫ ও টিউলিপকে ২ বছর কারাদণ্ড
শুধু রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলমকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এদিকে দুই মামলাতেই শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৪ জন আসামি। তাদের ছাড়াও আজমিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির তালিকায় আরও ৩ জন এবং রাদওয়ানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও ৩ জন রয়েছেন।
এর আগে ঢাকার পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক মামলায় শেখ রেহানাকে ৭ ও টিউলিপকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ ধার্য করেন।
মামলা দুটির অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাঁদের নামে বরাদ্দ দেন।
No comments