নগদ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা আমিরের আটক নিয়ে যা বলল জামায়াত
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন নগদ টাকাসহ আটকের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
মঙ্গলবার দুপুরের রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এটা এক ধরনের অপপ্রচার ও এক ধরনের ষড়যন্ত্র। ওই অর্থ তাঁর (বেলাল) ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সম্পত্তি।
এর আগে বুধবার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ।
সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় একজন যাত্রীর কাছে অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলমান।’
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বেলাল উদ্দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে তার ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হলে নগদ অর্থের বিষয়টি নজরে আসে। এত বড় অংকের টাকা বহনের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আটক জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কিছু বেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এই টাকা বহন করছিলাম। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।’ তিনি আরও দাবি করেন, টাকার উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি পরে দেখাতে পারবেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল দাবি নয়-টাকার প্রকৃত উৎস, বহনের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ওসি নাজমুল আলম বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধতা যাচাই জরুরি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।’
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ অর্থের উৎস যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি অবহিত করা হতে পারে।
ঘটনাটি স্থানীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতার কাছ থেকে এ ধরনের বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বিষয়টি, তবে পুলিশ বলছে-কোনো কিছুই অনুমানের ভিত্তিতে নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
No comments