শিরোনাম

৬০% ইসরাইলি সেনা ভুগছে মানসিক রোগে, করছে আত্মহত্যা

 

চ্যানেল টেন ডেস্ক ঃ

ফিলিস্তিনের গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক অভিযানের সময় এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা ও মানসিক রোগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গাজা সংঘাতে অংশ নেওয়া সেনাদের বড় একটি অংশ আঘাত–পরবর্তী মানসিক চাপজনিত রোগ (পিএসটিডি), উদ্বেগ ও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতিকে দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইসরাইলি হামলায় উপত্যকায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সেনাদের মধ্যে পিএসটিডি ও অন্যান্য মানসিক রোগের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে এ হার ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজা অভিযানে আহত ২২ হাজার ৩০০ সেনার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই বর্তমানে পিএসটিডিতে ভুগছেন।

এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করছেন ইসরাইলের এমেক মেডিকেল সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী রোনেন সিদি। তিনি জানান, সেনাদের মানসিক সমস্যার প্রধান দুটি কারণ রয়েছে। একটি হলো যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুভয় এবং অন্যটি তথাকথিত ‘নৈতিক আঘাত’। সংঘাতকালে করা কিছু কর্মকাণ্ড পরবর্তীতে তাদের মধ্যে তীব্র অপরাধবোধ ও মানসিক যন্ত্রণার জন্ম দিচ্ছে।

ইসরাইলের স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ম্যাকাবির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা সেনাদের ৩৯ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা চেয়েছেন। এছাড়া ২৬ শতাংশ সেনা তীব্র দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। গাজা অভিযানে অংশ নেওয়া এক সেনা জানান, সংঘর্ষ কমে এলেও মানসিক চাপ এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

ইসরাইলি পার্লামেন্টের একটি কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত অন্তত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—২০২৪ সালে দেশে সংঘটিত আত্মহত্যার ঘটনায় নিহতদের ৭৮ শতাংশই ছিলেন সংঘাতে অংশ নেওয়া সেনা। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, গাজায় ইসরাইলি হামলার ফলে উপত্যকার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ও সহিংসতা গাজার বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর মানসিক ট্রমা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

No comments