শিরোনাম

বগুড়া-২ আসন বিএনপি জোটের প্রার্থী নিয়ে নতুন মোড়

চ্যানেল টেন ডেস্ক ঃ

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক রায় এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত ২৪ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যেসব আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী না দেওয়ার নির্দেশ আছে, সেগুলোতে বিএনপি কেউ স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এরপর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে। ফলে তাকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ মেলেনি বলে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

এই অবস্থার পর, ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মান্নার পরিবর্তে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ মীর শাহে আলমকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে।

পরবর্তী পর্যায়ে—২ জানুয়ারি—রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে রোববার কমিশন তার আপিল মঞ্জুর করে। এর ফলে তার মনোনয়নপত্র আবার বৈধ হয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বিএনপি জোট কি পুনরায় মাহমুদুর রহমান মান্নাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবে, নাকি অধ্যক্ষ মীর শাহে আলমই থাকবেন জোটের প্রার্থী?
এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম বলেন, “দল আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাই আমি নিজের প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

অন্যদিকে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “এখনো পর্যন্ত আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়নি। দল কী করবে, সেটা আমি জানি না। তবে যেহেতু আমাকে আগে প্রার্থী করা হয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই আমার প্রত্যাহার হলে সেটিও নিয়মের মধ্যে পড়ে।”

এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাদুজ্জামানও ভোট প্রচারে সক্রিয়। বগুড়া-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত, নাগরিক ঐক্য ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীসহ মোট সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন।

No comments