শিরোনাম

বদলি নেই ১৭ বছর, লালমনিরহাট রেলওয়েতে অনিয়মের ছায়া।

 

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগে অনিয়ম এবং টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা প্রায় ১৭ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন, যা রেলওয়ের প্রচলিত বদলি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ওই কর্মকর্তার নাম ফারুকুল আলম মানিক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক অফিসার (এটিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতার বলয়ে থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় অবস্থান বজায় রেখেছেন। এমনকি পদোন্নতি পাওয়ার পরও তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়নি।

রেলওয়ের শ্রমিক ও কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, ফারুকুল আলম মানিক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন। রেলশ্রমিক বাদশা আলম (৪০) বলেন, “একজন কর্মকর্তা কীভাবে প্রায় দুই দশক ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থাকেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বদলি এড়িয়ে যাচ্ছেন।তিনি আরও দাবি করেন, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের ঘনিষ্ঠ ও পরিচিত কয়েকজনকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। এমনকি এক নারীর নামে পি-ম্যান পদে নিয়োগ দেখানো হলেও বাস্তবে ওই পদে কাজ করছেন অন্য একজন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।

এছাড়া ঈদসহ ব্যস্ত মৌসুমে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামলে আগেভাগেই তথ্য ও প্রমাণ গোপন করা হয় বলে জানান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ফারুকুল আলম মানিক প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু নথি সামনে এলে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন এবং পরে অফিস ত্যাগ করেন।এছাড়াও তার প্রভাব ব্যবহার করে আন্তঃনগর ট্রেনে টিকিট ছাড়াই লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় যাতায়াতের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

এ বিষয়ে বিভাগীয় ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অভিযোগগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম জানান, “অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় লালমনিরহাট রেলওয়েতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


No comments