শিরোনাম

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান, ভারতীয় মদতপুষ্ট ৪১ সন্ত্রাসী নিহত

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো এই অভিযানে ভারত–সমর্থিত ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিদেশি মদদে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের হুমকি পুরোপুরি দমন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। 

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেলুচিস্তানে চালানো দুইটি পৃথক অভিযানে ভারত–সমর্থিত মোট ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, সন্ত্রাসবাদের হুমকি চূর্ণ করতে নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতীয় প্রক্সি সংগঠন ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্য ছিল। বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

আইএসপিআর জানায়, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় হারনাই জেলার উপকণ্ঠে। সেখানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সদস্যদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে আঘাত হানে এবং তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ জন ভারত-সমর্থিত খাওয়ারিজ সন্ত্রাসী নিহত হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয় এবং সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানটি চালানো হয় পানজগুর জেলায়। সেখানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয় এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ জন ভারত–সমর্থিত সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়। আইএসপিআর জানায়, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর পানজগুরে সংঘটিত এক ব্যাংক ডাকাতির লুট করা অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সন্ত্রাসী অতীতে বহু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় যদি আরও কোনও ভারত–সমর্থিত সন্ত্রাসী লুকিয়ে থাকে, তাদের নির্মূলে ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’ চালানো হচ্ছে। আইএসপিআর বলেছে, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর লাগাতার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে এবং দেশ থেকে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের মূল উৎপাটন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্ত পার হয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে পাকিস্তানজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে একই বছর সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী বলেন, ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

No comments