শিরোনাম

সাংবাদিকতার মুখোশে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইল: বগুড়ায় সাংবাদিক সাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শিবগঞ্জে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার নাগরবন্দর এলাকার বাসিন্দা মোঃ রায়হানুল হক (২৭) নামের এক ব্যাক্তি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ধামাহার মধ্যপাড়া এলাকার মোঃ সাজু মিয়া (৩৬) নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রায়হানুল হকের ছোট ভাই মোঃ রাশেদুল হকের সঙ্গে এক ব্যক্তির পারিবারিক বিষয় নিয়ে ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ওই ব্যক্তি শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বন্দরে স্থানীয়দের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলায় আটক হন। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই মিথ্যা অভিযোগে সাজু মিয়া যোগসাজশ করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শেষে অভিযোগের অসারতা বুঝতে পারে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি পুলিশের হাত এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, তিনি পূর্বেও পারিবারিক মামলার আসামি ছিলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শিবগঞ্জ থানার গেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযুক্ত সাজু মিয়া সরাসরি ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে রায়হানুল হকের ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে প্রাণনাশের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রায়হানুল হকের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে থানা ও বিভিন্ন সরকারি অফিসে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি এক নারী কাউন্সিলরের ভাড়া দেওয়া বাসায় হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জনরোষে মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা পুরো ঘটনার বিষয়ে অবগত বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকতার পবিত্র পরিচয় ব্যবহার করে যদি কেউ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদার জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক সাজু মিয়া বলেন, আমি কখনো এই ধরনের ঘটনার জড়িত নই। আমার নামে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

তবে শিবগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

থানায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলামের সরাকারি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

No comments