শিরোনাম

ওকে গ্রুপের কিছুই ‘ওকে’ নেই: অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসলো থলের বিড়াল!

 

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ওকে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দী–সোনাতলা) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট নথি ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তত তিনটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করায় খেলাপির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু এক্সিম ব্যাংকেই ওকে গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান—ওকে এন্টারপ্রাইজ, ওকে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও ওকে প্রোপার্টিজ-এর নামে সুদসহ ৫২৩ কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি রয়েছে। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা এবং সদ্য একীভূত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে আরও প্রায় ২০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় সুদ ও অন্যান্য চার্জ যোগ হয়ে মোট দায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এসব ঋণ আদায়ে এক্সিম ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। তবে মামলার নিষ্পত্তি বা ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে একীভূত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য কাজী রফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালতে মামলা থাকলে কিংবা সাময়িক স্টে অর্ডার থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবেই গণ্য হন।

অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের প্রভাব খাটিয়ে অতীতে ওকে গ্রুপ সহজেই বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন পেত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেফতার হলেও কাজী রফিকুল ইসলাম রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে ঋণ পরিশোধ ছাড়াই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর শুরুতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপির বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সম্পূর্ণভাবে অবহিত না করেই তিনি মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বড় অঙ্কের ঋণখেলাপির প্রার্থী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দলীয় ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের বিধি ও ব্যাংকিং আইনের আলোকে বিষয়টি উপেক্ষা করলে তা ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

নির্বাচনী হলফনামায় কাজী রফিকুল ইসলাম ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ২৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং এক্সিম ব্যাংকে ৪৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দায় থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তার ঘোষিত বার্ষিক আয় মাত্র ৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ওকে গ্রুপের ঋণ নিয়ে এত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি আদালতে আপিলাধীন। আমার সিআইবি রিপোর্ট ক্লিয়ার।”

অন্যদিকে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর চেয়ারম্যান আইয়ুব মিয়া জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আইন মেনেই নিষ্পত্তি করা হয়।

No comments