শিরোনাম

‘আমার ভোট আমি যেকোনো কেন্দ্র থেকে দিতে পারছি না কেন, বাধা কোথায়’


চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

এনআইডি স্মার্ট কার্ডের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্রটি সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও কাছাকাছি যেকোনো একটি কেন্দ্রে কেন ভোট দেয়া যায় না? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ক্ষোভের সঙ্গে এমন প্রশ্ন তুলেছেন দেশের অনেক নাগরিক।

রাজধানীর একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখাল গত চার বছরে তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের অস্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। কিন্তু সরকারি দপ্তরের দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যুরোক্রেটিক জটিলতায় এখনও তিনি সেই ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারেননি। ভোটের দিন সকালে তাকে তার কর্মস্থল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। তার পক্ষে তার নিবন্ধিত এলাকার টঙ্গীতে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ফিরে ভোট দেয়া সম্ভবপর হবে না। কারণ তার ১০ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা শেষ হবে বিকেল ৪টায়। আর ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। অথচ তিনি অনায়েসে তার কর্মস্থল তেজগাঁওয়ের যেকোনো একটি সরকারী স্কুলে কাজের ফাঁকে ভোট দিয়ে আসতে পারতেন যদি আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকতো। তিনি আফসোস করে বলেন, হয়তো তার অনুপস্থিতে টঙ্গীতে তার নির্ধারিত ব্যালটে অন্য কেউ সিল মেরে দিতে পারে।

তার সরল প্রশ্ন, আমি যদি মোবাইল ব্যাংকিং, এটিএম কার্ড দিয়ে যেকোনো এলাকায় যেকোনো ব্যাংকের বুথ থেকে অনায়েসে টাকা তুলতে পারি তবে কেন আমি আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটটি আজ ১৮ বছর পরেও এই নতুন বাংলাদেশে দিতে পারবো না? এর দায় কার।

এই প্রতিবেদককে করা রাখালের প্রশ্নটি ছিল সরল, কিন্তু গভীরভাবে যৌক্তিক।

‘আমি যদি বিকাশ/নগদ আর এটিএম কার্ড দিয়ে যেকোনো জায়গা থেকে টাকা তুলতে পারি, তাহলে কেন আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটটি আমার সুবিধামতো যেকোনো কেন্দ্র থেকে দিতে পারবো না?’

এটি রাখালের কোনো আবেগী প্রশ্ন নয়। এটি আধুনিক যুগে বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় সেকেলে ভাবধারা ও আধুনিক প্রযুক্তিবিবর্জিত ধ্যানধারণার মুখোশ খুলে দিয়েছে। 

No comments