শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক নারীর মৃত্যু

 



ব্রাহ্মণবাড়িয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক নারীর মৃত্যু
সামজাদ জসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ভাদুঘর সংলগ্ন এলাকায় আজ দুপুরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় দিপালী দাস (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত দিপালী দাসের পরিবার পরিকল্পিতভাবে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

আজ, আনুমানিক দুপুর ১:৩০ মিনিটের দিকে, কাঞ্চনপুর এলাকায় এই মারামারির ঘটনা ঘটে। নিহত দিপালী দাসের মেজো ছেলে সবুজ দাস (২৩), যিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মেকানিক, তাঁর স্ত্রী সুইটি রানী দাস (২২)-কে সাথে নিয়ে সদর থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছেন। সুইটি রানী দাস এই হত্যাকাণ্ডের বাদী হয়েছেন।

মামলার অভিযোগে নিলয় দাস (২৩)-সহ 'আরও অনেকে' মিলে দিপালী দাসকে পরিকল্পিতভাবে ভারি পাথর দিয়ে মাথা ফাটিয়ে (পিটিয়ে) হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত দিপালী দাস (৪৫) দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তাঁর পরিবারের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বড় ছেলে (২৭) বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসী এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা। মেজো ছেলে সবুজ দাস (২৩) এবং পুত্রবধূ সুইটি রানী দাস (২২) মেয়ে ইতি দাস (২১)।

মাদক সাম্রাজ্যের যোগসূত্ররে এই খুন হয় বলে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে এলাকায় ভূমি আত্মসাৎ এবং কুখ্যাত ডাকাত, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারি মন মিয়ার ছেলে মহসিন-এর সক্রিয়তা। মৃত মন মিয়া জীবিত থাকাকালীন বিশাল এক ইয়াবা ও মাদক ব্যবসা সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং পরবর্তীতে তার ছেলে এই এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এলাকায় ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, এই অবৈধ সাম্রাজ্য ও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই আজকের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ, মামলার অভিযুক্ত প্রধান খুনির বিরুদ্ধে সদর থানায় ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি ডাকাতির মামলা এবং হত্যা চেষ্টার মামলাও রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাড়া প্রতিবেশীর প্রতিক্রিয়া:

ঘটনার পর থেকে কাঞ্চনপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাড়া প্রতিবেশীরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানালেও, খুনি এবং তার সহযোগীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, এই খুনি সবসময় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে।

আমরা তার ভয়ে তটস্থ। সে কারণে এবং বিনা কারণেও মানুষকে খুন করার জন্য উদগ্রীব থাকে। তার মাদক ব্যবসায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে, তাকে দুনিয়া থেকে চিরজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে সে দ্বিধা করে না," বলেন এক আতঙ্কিত প্রতিবেশী। "দিপালী দাসের হত্যা সেই হিংস্রতারই একটি পরিণতি।"

অন্য একজন প্রবীণ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মন মিয়ার পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকার শান্তি নষ্ট করছে। আজ প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হলো। পুলিশ যেন দ্রুত প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের, বিশেষ করে যার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলার অভিযোগ রয়েছে, তাকে দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।


No comments