যুদ্ধবিরতিতেও দুর্দশা কাটেনি ফিলিস্তিনিদের, ইসরাইলি হামলা অব্যাহত
চ্যানেল টেন ডেস্ক ঃ
দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় নির্বিচারে হামলার পর গত ১০ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় গাজার বাসিন্দারা কিছুটা আশার আলো দেখলেও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামাস জীবিত জিম্মিদের সবাইকে এবং একজন বাদে সব মৃত জিম্মি ফেরত দিলেও উপতক্যায় ইসরাইলি বর্বরতা থামেনি। বরং প্রতিদিনিই গাজার বিভিন্ন অংশে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু বাহিনী।
২০২৪ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গাজায় যুদ্ধ থামাতে ব্যাপক কূটনীতিক তৎপরতা শুরু করেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার আগের দিন চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরও হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপের ৪২ দিনে ৩৮ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। বিনিময়ে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরাইল। তবে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে হামাসের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ইসরাইল আবারও গাজায় তীব্র হামলা শুরু করে
রে আরব ও মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশকে সম্পৃক্ত করে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব দেন ডনাল্ড ট্রাম্প। অক্টোবরের শুরুর দিকে মিশরে পর্দার আড়ালে চলা কয়েকদিনের নিবিড় আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, ইসরাইল এবং হামাস তার প্রস্তাবিত ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে। এরই ধারাবাহিতকায় গত ১০ অক্টোবর গাজায় প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।
শর্ত অনুযায়ী, হামাস জীবিত ২০ জিম্মিকে ফেরত দেয় এবং একজন বাদে মৃত ২৭ বন্দির মরদেহ ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করে। বিনিময়ে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে তেল আবিব। একইসঙ্গে গাজায় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেনাদের পিছিয়ে এনেছে ইসরাইল। গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল উপত্যকাটিতে হামলা বন্ধ করবে ইসরাইল। এছাড়া সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়ার সঙ্গে বন্দি বিনিময় করতে বলা হয়েছিল।
No comments