শিরোনাম

বৈশ্বিক নিরাপত্তায় ২০২৬ সালই বড় চ্যালেঞ্জ


চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

২০২৫ সাল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিশেষ কোনো সুখবর বয়ে আনেনি। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার, মহাকাশ নিরাপত্তা এবং হাইব্রিড যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে বারবার, অন্যদিকে ইউক্রেন থেকে সুদান—সংঘাতগুলো আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

২০২৫ সালের নিরাপত্তাহীনতার চিত্রে চারটি প্রধান দিক আলোচনা করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউস।

পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াই ও নতুন সমীকরণ

২০২৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে।

চীনের উত্থান: চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার যে গতিতে বাড়ছে, তাতে এ দশকের শেষ নাগাদ তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আইসিবিএম সংখ্যা রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের সমান হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন ও ন্যাটো: মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে, যা ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা:

মে মাসে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র সংঘাত বিশ্বকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল।

মধ্যপ্রাচ্য ও কোরিয়া: ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং উত্তর কোরিয়ার ‘নিউক্লিয়ার ডমিনো’ ইফেক্টের সতর্কতা পারমাণবিক প্রসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৬ সালের বড় পরীক্ষা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হবে। এটি নবায়ন না হলে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের এক অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

হাইব্রিড যুদ্ধের তীব্রতা

ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে হাইব্রিড হামলা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিমানবন্দর এবং সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ছিল নিয়মিত চিত্র। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে এ ছোট ড্রোন বা বেলুন মোকাবিলার মতো ব্যয়সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। পোল্যান্ড এরই মধ্যে সতর্ক করেছে যে, তারা রাশিয়ার কোনো বিমান ভূপাতিত করতে পারে, যা ২০২৬ সালে বড় কোনো যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার

২০২৫ সালে দেশগুলো একে অপরের অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

চীন: তারা খনিজ সম্পদের রপ্তানি সীমিত করে পশ্চিমা অস্ত্র শিল্পকে চাপে রেখেছে। এ ছাড়া চিপ ও ড্রোন যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপীয় গাড়ি শিল্পকে সংকটে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র: বাণিজ্য ও শুল্ক সুবিধা আদায়ের জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে।

মহাকাশ নিরাপত্তা ও ‘স্টার ওয়ার্স’-এর প্রত্যাবর্তন

২০২৫ সালের মার্চে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র শেয়ার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর চোখ খুলে দিয়েছে।

ইউরোপের প্রস্তুতি: জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য তাদের মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় বিনিয়োগ করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মহাকাশ অস্ত্রের জন্য ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছেন।

ভারত ও ব্রাজিল:

চীনকে মোকাবিলায় ভারত তার সামরিক মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

গোল্ডেন ডোম:

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ (রেগান আমলের মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পুনর্জন্ম) মহাকাশের সামরিকীকরণকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ২০২৫ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মহাকাশে জ্যামিং এবং অস্ত্রবাহী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে।

২০২৬ কি আরও ভয়াবহ হবে

২০২৬ সাল হবে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। ফেব্রুয়ারিতে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং এপ্রিলে ‘এনপিটি’-এর পর্যালোচনা সম্মেলন নির্ধারণ করবে বিশ্ব কি কোনো শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরবে, না কি জাতীয় স্বার্থের সংঘাতে আরও বড় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে।



No comments