শিরোনাম

​ক্যান্সারে দিশেহারা অটোভ্যান চালক সিরাজুল বাঁচতে প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

সমাজসেবা কর্মকর্তার সহযোগিতার আশ্বাস 

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আমড়াগোহাইল গ্রামের অটোভ্যান চালক সিরাজুল ইসলাম এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই ব্যক্তিকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন, কিন্তু সহায় সম্বল হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব।

কয়েক বছর আগে সিরাজুলের পেটে টিউমার ধরা পড়লে অপারেশন করা হয়। দেড় বছর সুস্থ থাকার পর পুনরায় পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, তাকে বাঁচাতে আরও অন্তত ছয়টি কেমোথেরাপি প্রয়োজন। প্রতিটি কেমোথেরাপির খরচ প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। ইতিপূর্বে চিকিৎসার খরচ মেটাতে তিনি নিজের শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকুও বিক্রি করে দিয়েছেন।

ছেলের পাশে বসে মা শিরিন বিবি কান্না কণ্ঠে বলেন,

​একটা কেমোথেরাপির জন্য ৬০-৭০ হাজার টাকা লাগে। ঘরে খাবার নেই, চিকিৎসা করার টাকাও নেই। আমার কলিজার টুকরা ছেলেটাকে বাঁচাতে আমি সবার কাছে হাত পাতছি। আপনারা দয়া করে এগিয়ে আসুন।

ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত আব্দুল হাকিম বলেন, 

​আমি অনেক নেতা ও সমাজসেবকের কাছে গিয়েছি, কেউ সাহায্য করেনি। সমাজসেবা অফিসে কয়েকবার আবেদন করেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এখন টাকা জোগাড় করতে না পারলে আমার ভাইয়ের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

​স্ত্রী সিমা খাতুন স্বামী, দুই সন্তান আর শাশুড়িকে নিয়ে দিশেহারা সিমা খাতুন বলেন,

​আমাদের সুখের সংসারটা মরণব্যাধি ক্যান্সার তছনছ করে দিয়েছে। ছোট ছোট দুইটা বাচ্চার মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। আমার স্বামীকে বাঁচাতে আপনাদের একটু সহযোগিতা কি আমরা পাব না।

এবিষয়ে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের নেতা ও স্থানীয় সমাজসেবক রুবেল বলেন,

​সিরাজুল অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ ছিলেন। আজ তিনি নিরুপায়। সমাজসেবা অফিস থেকে সহযোগিতা না পাওয়াটা দুঃখজনক। আমি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের অনুরোধ করছি, যে যা পারেন তা দিয়ে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান বলেন,

​ক্যান্সার আক্রান্তদের আমরা সাধারণত ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেই। অনেকে অনলাইনে সঠিক নিয়মে আবেদন করতে পারেন না বলে সুবিধা পান না।

তিনি আরও বলেন, সিরাজুলের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে খোঁজ নেব এবং তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

এদিকে ​চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে সিরাজুল ইসলামের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে। তার ৯ বছরের কন্যা এবং সাড়ে তিন বছরের পুত্রসন্তান ফিরে পেতে চায় তাদের বাবাকে।

​সিরাজুল ইসলামকে সাহায্য পাঠাতে পারেন নিচের নম্বরে:

​বিকাশ (পারসোনাল): ০১৭২৫-২৪৩১৯৬


No comments