শিরোনাম

বিজয় দিবসে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল লুট, জুতা পায়ে সেলফিতে ভিড়

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বগুড়া শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে অর্পিত শ্রদ্ধাঞ্জলির পুষ্পমাল্য হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর খোকন পার্কসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই শহীদ মিনার থেকে ফুল নিয়ে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা শহীদদের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।

সরেজমিনে সন্ধ্যা ৮টার দিকে দেখা যায়, শহীদ মিনারের চারপাশে ছড়িয়ে,ছিটিয়ে থাকা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছে শিশুরা। আবার কেউ কেউ জুতা পায়ে শহীদ মিনারের ওপর দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগেই বিকাল পৌনে ৫টার দিকে কিছু উৎসুক ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই শ্রদ্ধাঞ্জলির পুষ্পমাল্য নিয়ে সরে পড়ে।

এ ঘটনায় বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে অর্পিত ফুল অন্তত পরদিন ভোর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। কিন্তু এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।

বগুড়া সদর (৭) নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমিন বলেন, শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য সংরক্ষণের বিষয়ে একাধিকবার প্রস্তাব দেওয়া হলেও গত কয়েক বছর ধরে একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি   আমিনুল ফরিদ বলেন, শহীদদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ফুল যদি মুহূর্তেই হারিয়ে যায়, তাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয় দিবসের তাৎপর্য ম্লান হয়ে যাবে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

এ বিষয়ে বগুড়া মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাজেদুর রহমান মাজেদ বলেন, বিকাল ৫টার আগেই শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।

শহীদ মিনার থেকে পুষ্পমাল্য হরিলুটের অভিযোগ প্রসঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তিনি সদর ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে সদর ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সকাল থেকে সাতমাথা মোড় থেকে শুরু করে খোকন পার্ক এলাকা পর্যন্ত পুলিশ ডিউটিতে ছিল। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

No comments